দাঁতনের দেউলিতে শুভেন্দু ও বিজেপিকে আক্রমণ করলেন বিধায়ক বিক্রম প্রধান
দি নিউজ লায়ন ; শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি বিধানসভার অন্তর্গত দাঁতন এক নম্বর ব্লকের দেউলি তে বিজেপির সন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় ।ওই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান, কেশিয়াড়ি বিধায়ক পরেশ মুর্মু, তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র সুদীপ রাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখপাত্র দেবাশীষ চৌধুরী , দাঁতন এক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রতুল দাস, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অপূর্ব ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ওই প্রতিবাদ সভায় কয়েক হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি মহিলাদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো। দেউলীর প্রতিবাদ সভা থেকে তীব্র ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিধায়ক বিক্রম প্রধান। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার ।যেকোনো একটি দল থেকে অন্য দলে যে কেউ যেতে পারে। তবে যে দলে তিনি কুড়ি বছর থেকে দলের খেয়ে পরে বড় হয়েছেন সেই দলের বিরুদ্ধে তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করছেন তা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন তৃণমূল যদি চোরেদের পার্টি তাহলে কেন তিনি এতবছর তৃণমূলে ছিলেন ।আজকে তিনি বিজেপি দলে যোগ দিয়েছেন কিসের জন্য তা বাংলার মানুষ ভালো ভাবে জানেন। 30 জন সিআরপিএফ জওয়ান তার সব সময় নিরাপত্তায় রয়েছে ।তা সত্ত্বেও তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তার রাস্তাঘাটে যাতায়াতের পথে রাজ্য সরকারকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন হাইকোর্টে। তিনি এমন জননেতা যে তাকে রাস্তাঘাটে মানুষ হামলা চালাতে পারে। আসলে উনি বুঝতে পেরেছেন বাংলায় বিজেপির অস্তিত্ব নেই আগামী দিনে বাংলায় বিজেপির কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
বিজেপি চোরেদের পার্টি, ডাকাতের পার্টি।বিজেপি ভারতবর্ষকে বিক্রি করে দিতে চাইছে। তাই তিনি তীব্র ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী কে বলেন রাজনীতির ময়দানে দেখা হবে কে কত বড় নেতা ।আমরা একজন তৃণমূলের কর্মী হিসেবে কাজ করবো, মাঠে থাকবো, মানুষের পাশে থাকব ।আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আপনার সাথে আমাদের সরাসরি লড়াই হবে। আপনি বলেছেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ৩৫ টি আসন বিজেপির হাতে তুলে দেবেন ।দেখি আপনার কত সাহস, পাঁচটা আসনে জয়লাভ করে দেখান তাহলে ভাববো যে পদ্ম ফোটানোর ক্ষমতা আপনার রয়েছে।
তিনি বলেন কৃষক বিরোধী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যে বিজেপি সরকার কৃষকদের সর্বনাশ করার জন্য কৃষক বিরোধী কৃষি বিল পাশ করিয়েছে।সেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা কৃষকের বাড়িতে খেয়ে কয়েকজন কৃষকের বাড়িতে আলু ডাল সবজি ভিক্ষা নিছেন ,ছবি তুলছেন প্রচার করছেন। তিনি কৃষকদের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে প্রচার করছেন।
বিজেপির মত কৃষকদের বড় শত্রু আর কেউ নেই। তাই আজ কৃষকরা ৫০ দিন অতিক্রান্ত হল আন্দোলন শুরু করেছে, কৃষকদের আন্দোলনে সুপ্রিমকোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে চলেছে অথচ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষকদের সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।আর এরা বাংলায় এসে কৃষকদের বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা দেশটাকে যেমন বিক্রি করছে তেমনি কৃষকদের জমি ও লুট করবে। যেভাবে ঝাড়খন্ডে আদিবাসীদের জমি এরা লুট করেছে তাই ঝাড়খন্ড থেকে এদের কে বিদায় করে দিয়েছে। তেমনি বাংলার মানুষ এদেরকে বিদায় করবে।
এদের মত বর্বর অসভ্য দল আর ভারতবর্ষে নেই। সেই দলের নেতা হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার থেকে কি এর বেশি আশা করা যায় না। তিনি বলেন তিনি গর্ব করেন সতীশ সামন্ত ,মাতঙ্গিনী হাজরার দেশের মানুষ। কিন্তু মাতঙ্গিনী হাজরা সতীশ সামন্ত সুশীল ধাড়াএরূপ মানুষ ছিলেন না। কারণ যে মানুষটি আজকে নাথুরামের দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তার মুখে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম শোনা উচিত নয়।
তিনি বলেন এটা লোকসভা নির্বাচন নয়, এটা পঞ্চায়েত নির্বাচন নয়, এটা বিধানসভা নির্বাচন ।তাই তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মিথ্যাবাদী দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

Post a Comment